News Editor
২৪ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৪০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কীটনাশকে হুমকিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ : নীতিতে সমন্বয়ের দাবি উপদেষ্টার

দেশে কৃষিতে নির্বিচারে কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি মনে করেন, বিষয়টিকে শুধু কৃষি খাতের সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নীতিতেও কীটনাশকের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাগ্রোইকোলজি কোয়ালিশন বাংলাদেশ, পিকেএসএফ, ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে, ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও এফআইভিডিবি-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের মৌলিক নীতিমালা : বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানান, কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। তাই নীতিগত সমন্বয় ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।

উপদেষ্টা বলেন, মাছ ধরার নিয়ম মানলেই হবে না, প্রাকৃতিক জলাশয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এখন অত্যন্ত জরুরি। দেশীয় মাছ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি হাওর–বাওরের অভয়াশ্রম সুরক্ষায় দায়িত্বজ্ঞানহীন পর্যটনকে বড়ো বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তার মতে, অভয়াশ্রম ঘোষণা করলেই হবে না; পর্যটন নীতিতেও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ না থাকলে উদ্যোগ সফল হয় না।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য উৎপাদনে কৃষি যত গুরুত্ব পায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত ততটা পায় না। এই অসম দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছ মরার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

ডায়ালগে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি শি জিয়াওকুন এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাগ্রোইকোলজি কোয়ালিশনের আহ্বায়ক ও ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলী। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চের গবেষণা পরিচালক আহমেদ বোরহান, সঞ্চালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, এনজিও প্রতিনিধি, খামারি ও বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এই আলোচনায় অংশ নেন। আলোচকদের মতে, কীটনাশকের যৌথ প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংকোচন এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন—সব মিলিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত এখন একটি জটিল সংকটের দিকে এগোচ্ছে। নীতি–সমন্বয় ছাড়া এই খাতের বাস্তব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ন্যাটোর আদলে সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

১

জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২

চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ৪ নতুন বই

৩

গ্যাসের সন্ধান মিলল নতুন কূপে, জ্বালানি খাতে সুখবর

৪

পুলিশ ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫

স্থানীয় নির্বাচনে পোস্টার ও জনসভা নিষিদ্ধ

৬

নাঙ্গলকোট বিএনপিতে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ

৭

বিরোধীদলীয় নেতাকে দেড়শ টাকার দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

৮

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৬%

৯

অটোরিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি

১০

ডেঙ্গু নিয়ে সবাইকে সতর্ক করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

১১

চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল

১২

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

১৩

আগের সরকারের ১৩০০ প্রকল্পের অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

১৪

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

১৫

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান

১৬

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ

১৭

সালাম তালুকদারের রাজনীতি ছিল কেবলই মানুষের জন্য: স্মরণসভায় বক্তারা

১৮

ঢাকায় যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি

১৯

আরও বোয়িং কিনবে বাংলাদেশ, চুক্তিকে ‘অসাধারণ’ বললেন সার্জিও গোর

২০