

নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশের প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন স্তরের সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে পুলিশ। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী—এই তিন ধাপে নিরাপত্তা কার্যক্রম সাজানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে আয়োজিত শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রোববার অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি জানান, পূজাকেন্দ্রিক সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি কার্যকর করা হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দেন তিনি।
উৎসব চলাকালে যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তদারকিতে পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে বিশেষ মনিটরিং সেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব বা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা দেখা দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা এবং মণ্ডপ পরিদর্শনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সার্বক্ষণিক সচল সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং কোনো সংকট সৃষ্টি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কিংবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিবৃন্দ, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ আলোচনায় অংশ নিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপাররা সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
মন্তব্য করুন