News Editor
২২ জুলাই ২০২৫, ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে প্রাণ দিলেন মাহরীন চৌধুরী

২১ জুলাই, ২০২৫। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের পরপর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের একটি ভবনে যখন আগুন ছড়িয়ে পড়ে, সেই কঠিন সময়ে একজন শিক্ষক রয়ে গিয়েছিলেন শিক্ষার্থীদের পাশে। তিনি মাহরীন চৌধুরী। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সমন্বয়ক, যিনি দায়িত্বের জায়গা থেকে সরেননি।

মাহরীন চৌধুরীর শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা গেছেন তিনি। মাহরীনের ছোট ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী বোনের মৃত্যুর খবর দিয়ে ফেসবুক পোস্টে লেখেন—

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মাহরীন আপু (মাহরীন চৌধুরী) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আমার বড় বোন। যিনি আমাকে মায়ের মতো করে বড় করেছেন। তিনি মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। ভবনে আগুন লাগার সময় তিনি সবার আগে নিজে বের হননি, বরং যতজন ছাত্রছাত্রীকে পারা যায়, বের করে আনার চেষ্টা করেছেন। এতে তাঁর শরীরের ১০০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। আজ রাতে আমার প্রিয় বোনের জন্য দোয়া করবেন দয়া করে। তিনি রেখে গেছেন তাঁর দুই ছেলে—আমার দুটি ভাগনে। আমরা এখনো হাসপাতালে থেকে তাঁর মরদেহ বুঝে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

মাহরীন চৌধুরী ম্যাডামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক পোস্ট চোখে পড়ছে। তাঁর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ‘বীর’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখছে।

আমরা উত্তরা মাইলস্টোন কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় হতাহতের জন্য গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা যাদের হারিয়েছি, তাদের বেশির ভাগই শিশু। কত শিশু, কত মানুষ যে হাসপাতালে পোড়া শরীর নিয়ে কাতরাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে আসে তা ভাবতে গেলে।

এই গভীর শোকে আমরা স্তব্ধ। তবু এ সময়ে মাহরীন ম্যাডামের মতো ‘বীর’ শিক্ষকদের কথা পড়ে, জেনে, শুনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় নত হই। আমাদের চোখ ভিজে আসে। আমরা সাহসে বুক বাঁধি।

আমাদের স্কুলের বইয়ে পড়েছিলাম ফেলেসিয়া ডরোথিয়া হেমানসের লেখা ‘ক্যাসাবিয়াঙ্কা’ কবিতা—

The boy stood on the burning deck

Whence all but he had fled;

The flame that lit the battle’s wreck

Shone round him o’er the dead.

এক সাহসী ছেলের কথা ছিল কবিতায়। ছেলেটির বাবা তাকে জাহাজের একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলেন। জাহাজে আগুন লাগে। ছেলেটি পুড়ে যায়, মারা যায়, কিন্তু তার জায়গা থেকে সরে যায়নি।

‘ছেলেটি জ্বলন্ত জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ছিল

সরে গিয়েছিল সবাই—কেবল সে ছিল বাকি;

সেই আগুনের আলো, ধ্বংসস্তূপের ওপরে পড়ে ছিল

চারদিকে মৃতদেহ।’

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ির মাহরীন ম্যাডাম আরও বড় কাজ করেছেন। তিনি শিশুদের, তাঁর ছাত্রছাত্রীদের বাঁচানোর জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা তাঁকে আবারও শ্রদ্ধা জানাই।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ড্রোন হামলার ধাক্কা কাটিয়ে এলএনজি উৎপাদনে ফিরছে কাতার

নিষিদ্ধ হলেন মুখ ঢেকে কথা বলে লাল কার্ড দেখা সেই ফুটবলার

নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল কলম্বিয়া

মেসি তো সবসময় গোল করে, আগেও করেছে ভবিষ্যতেও করবে: এমবাপ্পে

রেকর্ড হারিয়ে ক্লোসা বললেন, ‘আগেই বলেছি, মেসি সর্বকালের সেরা’

ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে মর্যাদা রক্ষায় লড়াই করছে: ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

দ্বিতীয় রাউন্ডে যেভাবে আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে কেপ ভার্দে

চার বিরতি নিয়ে আপত্তি স্কালোনির, অস্ট্রিয়া ম্যাচ নিয়ে সতর্ক অবস্থান

১০

যুক্তরাজ্যে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, হতাহত ৯০

১১

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১২

দেশে ফের কমল স্বর্ণের দাম

১৩

নেইমারকে নিয়ে সুখবর দিলেন আনচেলত্তি

১৪

হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেফতার ৫

১৫

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

১৬

এক ম্যাচেই রেকর্ডবুক তছনছ করলেন মেসি

১৭

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান

১৮

বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক, সে ম্যাচেই সুইডেনের নায়ক ইয়াসিন

১৯

দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় লাফ

২০