News Editor
১২ জুলাই ২০২৫, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আমার স্বামীকে কেন এমন নির্মমভাবে মেরে ফেলল, প্রশ্ন নিহত সোহাগের স্ত্রীর

আমার স্বামীকে কেন এমন নির্মমভাবে মেরে ফেলল, প্রশ্ন নিহত সোহাগের স্ত্রীর

জেলা প্রতিনিধিঃ ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বরগুনার লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯)। পাষাণদের আঘাতে জীবন হারানো এই ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বাবার কবরের সামনে নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহান এবং তার একমাত্র বোন, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সোহানা। কিছু বলার মতো শক্তি নেই, চোখে যেন জমে আছে না বলা শত প্রশ্ন।

তারা জানে বাবা আর কখনোই ফিরবেন না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহাগের ছোট ছেলে সোহান (১১) বলছে, ‘আমাদের এতিম বানাইয়া ফালাইছে, আমরা কোথায় থাকব।’

তার বড় বোন সোহানা (১৪) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার বাবাকে ব্যবসার জন্য মেরে ফেলেছে। তারা বাবার কাছে টাকা চাইছিল।

বাবা বলেছিল, আমি কষ্ট করে রোজগার করি, তোদের কেন টাকা দেব। তাই ওরা বাবাকে হত্যা করেছে। এই নরপিশাচদের ফাঁসি চাই।’
স্বামীর কবরের পাশে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী লাকী আক্তার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে কেন এমন নির্মমভাবে মেরে ফেলল। আমার ছেলেমেয়েদের এতিম করে দিল। আমি ওদের কিভাবে মানুষ করব। এই নির্মমতার বিচার কি হবে না।’
স্বজনরা জানান, ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামে একটি দোকান চালাতেন সোহাগ।

দীর্ঘদিন ধরেই তার কাছে মাসিক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল একটি সন্ত্রাসী চক্র। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত বুধবার বিকেলে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার দাবিতে আটকে রাখা হয় এবং দফায় দফায় চাপ দেওয়া হয়। শেষমেশ পাষাণের মতো পাথর দিয়ে মারধর করে সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এদিকে শুক্রবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় বরগুনায়। পরে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুর খবরে বরগুনার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে স্বজনদের আহাজারিতে।
মাত্র সাত মাস বয়সে বজ্রাঘাতে বাবা আইউব আলীকে হারান সোহাগ। জীবিকার তাগিদে মা আলেয়া বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে বরগুনা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ছোটবেলা থেকেই সোহাগ ঢাকায় বড় হন এবং পরিশ্রম করে একটি ব্যবসা দাঁড় করান। সেই ব্যবসাই আজ তার প্রাণ কেড়ে নিল।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা চান, এ নৃশংসতার যেন বিচার হয় এবং আর কোনো শিশু যেন এভাবে পিতৃহারা না হয়।
নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বরগুনা জেলা বিএনপির নেতারা সোহাগের বাড়িতে ছুটে যান। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘আমরা সোহাগের পরিবারের পাশে আছি, আইনি সহায়তাসহ যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বিএনপি।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

১

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ

২

১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ চুনাকারখানা বন্ধ করতে হবে: এমপি মান্নান

৩

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নির্ধারণে ৮ নির্দেশনা

৪

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারেক রহমানের

৫

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

৬

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

৭

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৮

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৯

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

১০

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

১১

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

১২

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

১৩

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

১৪

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১৫

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১৬

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৮

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

১৯

ইউনূসকে হেনস্তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনার : জামায়াত আমির

২০