News Editor
২৬ মে ২০২৫, ১:২০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সীমান্তে গুলি, ঘরে মায়ের কান্না

জেলা প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই তরুণের মরদেহ এখনও দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ঘটনার মাসখানেক পার হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মরদেহ ফেরত না দেওয়ায় হতাশায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। সীমান্তে প্রাণ হারানো সন্তানদের শেষবারের মতো দেখতে না পারার কষ্টে কাতর স্বজনরা এখন শুধু একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিচ্ছেন—“কোথায় রাষ্ট্রের জবাব?”

নিহতদের একজন গোপালপুর গ্রামের ওবাইদুর রহমান। ঢাকায় গাড়ি চালানোর পেশায় যুক্ত থাকা ওবাইদুর ২৭ এপ্রিল রাতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। মধুপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়েন ওবাইদুর। পরে গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। সীমান্তের ভারতীয় অংশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর বিএসএফ মরদেহটি নিয়ে যায়, কিন্তু এতদিনেও তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়নি।

ওবাইদুরের মা নাসিমা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ছেলের লাশটা যদি পেতাম, কবর দিতাম। অন্তত মনকে বোঝাতে পারতাম সে আমার কাছেই আছে। বিজিবির কাছে কতবার গেছি, কিন্তু কিছুই হলো না।”

অপর যুবক ওয়াসিমের বাড়ি বাঘাডাঙ্গা গ্রামে। তিনি ৬ এপ্রিল ভারতের দিকে গিয়েছিলেন কয়েকজনের সঙ্গে। হাবাসপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ধাওয়া করলে বাকিরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়েন ওয়াসিম। ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় ইছামতি নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন সেটিই ওয়াসিমের মরদেহ, যা ভারতের সীমানায় ছিল। পরে বিএসএফ সেটিও নিয়ে যায়।

ওয়াসিমের ভাই মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা বিজিবিকে জানিয়েছিলাম, তারা লিখিত অভিযোগও নিয়েছে। কিন্তু পরে জানায় তাদের কিছু করার নেই।”

মা ফিরোজা খাতুন বলেন, “বিজিবি বলছে, পাসপোর্ট-ভিসা করে আমাদেরই ভারতে গিয়ে লাশ আনতে হবে। গরিব মানুষ, আমরা কীভাবে যাব?”

৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, “বিএসএফ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। সেগুলোর ময়নাতদন্ত হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা বৈধভাবে গিয়ে প্রমাণপত্র, সনাক্তকরণ ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এনওসি নিয়ে ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে আবেদন করলেই মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অনেকবার পতাকা বৈঠক করেছি, লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু বিএসএফ বলছে, বিষয়টি তাদের হাতে নেই, এটি এখন ভারতীয় পুলিশের এখতিয়ার।”

স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্তে এমন মৃত্যু নতুন নয়, কিন্তু এত দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ আটকে থাকার ঘটনা বিরল। তাদের মতে, বিজিবি ও প্রশাসনের মাঝে আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল বলেই পরিবারগুলো এতটা ভুগছে।

এই দুই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা আজ প্রশ্নের মুখে। একদিকে গুলিতে প্রাণ হারানো সন্তান, অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ পরিবার—এই দ্বৈরথের মাঝখানে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছে মানবতা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

১

৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিকের সব বই সরবরাহের নির্দেশ

২

১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ চুনাকারখানা বন্ধ করতে হবে: এমপি মান্নান

৩

চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন নির্ধারণে ৮ নির্দেশনা

৪

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারেক রহমানের

৫

ধর্ম নয়, সবার বড় পরিচয় বাংলাদেশি : তারেক রহমান

৬

অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী

৭

চলতি মাসেই বাড়তি বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

৮

আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু

৯

ইরান যুদ্ধে ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ স্বীকার জেডি ভ্যান্সের

১০

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বংসী দাবানল, পুড়ল শত শত একর জমি

১১

প্রশাসনে বড় রদবদল: সাত সচিবের দপ্তর বদল

১২

পুলিশ প্রশাসনে রদবদল: ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি

১৩

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বন্দরে ‘বাংলাদেশ সনাতন সংঘ’র গীতা দান

১৪

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১৫

বাপার সিদ্ধিরগঞ্জ আঞ্চলিক সমন্বয় কমিটি গঠন

১৬

বিরোধীরা না থাকলেও বাস্তবায়িত হবে ‘জুলাই সনদ’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ : হাসনাত আবদুল্লাহ

১৮

বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

১৯

ইউনূসকে হেনস্তার সম্পূর্ণ দায় শেখ হাসিনার : জামায়াত আমির

২০