নিউজ ডেস্ক
২৯ অগাস্ট ২০২৫, ৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শুধু প্রচার নয়, ধর্মীয় নেতাদের ‘উঠে দাঁড়াতে’ বলল মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলি গণহত্যার মুখে গাজার জন্য ধর্মীয় নেতাদের শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়, ‘শান্তির জন্য উঠে দাঁড়াতে এবং কাজ করতে’ আহ্বান জানিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এক সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

আরব নিউজ জানিয়েছে, ‘সংঘাত নিরসনে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা’ শীর্ষক ধর্মীয় নেতাদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী সকল প্রধান ধর্মের প্রতিনিধিদের একত্রিত করা হয়।

এতে মুসলিম, খ্রিস্টান, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বক্তারা সহিংসতা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা, ধর্মীয় কূটনীতি এবং গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা হামলার ওপর বিশেষ অধিবেশন নিয়ে আলোচনা করেন।

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের প্রতিনিধিত্বকারী আল-ইসা উদ্বোধনী বক্তৃতায় বলেন, ‘এই শীর্ষ সম্মেলন ধর্মীয় নেতাদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মূল্যবোধ সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বের সামনে দাঁড় করাতে এসেছে। মূল্যবোধগুলো ঘোষিত হয়েছে এবং এগুলো বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ গাজা উপত্যকায় যা ঘটছে — গণহত্যা এবং হৃদয়বিদারক দুর্ভিক্ষ, যা সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যক্ষ করেছে — তা মানবাধিকারের নীতির ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক নজির। জাতিসংঘের সার্বজনীন সনদ জারির পর থেকে, আমাদের বিশ্ব কখনো (গাজার পরিস্থিতির মতো) এমন কিছু দেখেনি। দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, এটি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সন্দেহ জাগায়।’

আরব নিউজ জানিয়েছে, আল-ইসা সম্মেলনে ধর্মীয় নেতাদের কেবল ‘প্রচার’-এর ওপর মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাননি, বরং শান্তি গঠনে সক্রিয় হওয়ার এবং তাদের অনুসারীদের মানবিক মর্যাদার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের দিকে পরিচালিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে, আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, ‘প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে শিশুরা মারা যাচ্ছে, ঘরবাড়ি এবং মানুষ বোমা হামলার শিকার হচ্ছে… এই পৃথিবীতে কী ঘটছে? আমাদের বিশ্বাস এবং নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানো বিবেকের কণ্ঠস্বর কোথায়? আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং ধর্মীয় নেতাদের তাদের মতামতে আরও দৃঢ় হতে হবে।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধে কমপক্ষে ৬২ হাজার ৮৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, কেননা আহত হয়ে এবং স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের অভাবে অনেক মানুষ মারা গেছেন।

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর গাজার বেশিরভাগ অবকাঠামো ধ্বংস এবং চিকিৎসা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারের কৌশলের কারণে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, সম্মেলনে ৫৪টি দেশের ১৫০ জন বিদেশি ধর্মীয় প্রতিনিধিসহ প্রায় ১৫০০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ

সালাম তালুকদারের রাজনীতি ছিল কেবলই মানুষের জন্য: স্মরণসভায় বক্তারা

ঢাকায় যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি

আরও বোয়িং কিনবে বাংলাদেশ, চুক্তিকে ‘অসাধারণ’ বললেন সার্জিও গোর

দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল

কোনো দৃশ্য বাদ না দিয়েই সেন্সর ছাড়পত্র পেল বিতর্কিত ‘টক্সিক’

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান ইরানের প্রেসিডেন্টের

১১

হরমুজকে ফের ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের

১২

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

১৩

সফটওয়্যার আপডেটে আইফোন নাকি পিক্সেল—কোন স্মার্টফোন এগিয়ে?

১৪

হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেন সরকারের হামলা

১৫

বিরোধীদল হয়েই আ.লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ

১৬

প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরাইলি মন্ত্রী

১৭

সিনেমায় ৫১ বছর পূর্ণ করলেন রজনীকান্ত

১৮

ডলার দুর্বল হওয়ার প্রভাব স্বর্ণের দামে

১৯

বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ, হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

২০