News Editor
১৫ মে ২০২৫, ৬:৫২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ঐকমত্য কমিশনের কিছু প্রস্তাব দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং : বাসদ

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কিছু প্রস্তাব মানা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জিং। এই বিষয়গুলোতে ঐকমত্য পৌঁছানো খুব দুরূহ ব্যাপার। মৌলিক বিরোধগুলো বাদ রেখে কাছাকাছি ও আংশিক ঐকমত্য আছে, সেগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। বজলুর রশীদ ফিরোজের সঙ্গে দলটির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা-যেমন ছিল, যেমন চলছে, সেইভাবে বাংলাদেশ চলতে পারে না। নিশ্চয়ই কিছু না কিছু পরিবর্তন সাধন করতে হবে। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ও দেশের শাসন কাঠামোর মধ্যে যেমন পরিবর্তন করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তাদের রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন এবং কর্মকাণ্ডের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হবে, মানসিকতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে সমাজ, জনগোষ্ঠী গ্রহণ করবে না। আমরা মনে করি পরিবর্তন অভশ্যম্ভাবী, পরিবর্তন সম্ভব এবং পরিবর্তন করতে হবে।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, জাতীয় সনদে সবার অঙ্গীকারের জায়গায় আসত পারব। যদিও আমাদের দেশের ইতিহাসে ঐকমত্য, সনদ অনেক তৈরি হয়েছিল। কারণ সংবিধান মেনে গত ৫৪ বছরে কেউ দেশ পরিচালনা করেনি। সংবিধানে অনেক অসম্পূর্ণতা আছে। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর তিন জোটের রূপরেখা দেশ পরিচালনা করার কথা ছিল, সেটিও পরবর্তীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতা যাওয়া দলগুলো বাস্তবায়ন করেনি। ছাত্রদের ১০ দফা, শ্রমিকের পাঁচ দফা, কৃষকের ১০ দফা, নারীদের দফা– এগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু তা মানেননি। সেই জন্য একটা প্রবাদ আছে, চুন খেয়ে মুখ পুড়ে গেলে, দই দেখলেও ভয় লাগে। এখন অঙ্গীকার যতই করি না, মানসিকতার পরিবর্তন না করলে কতটুকু কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন থাকে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন, মূল্যবোধ ও চেতনা কতটুকু গড়ে তুলতে পারব, তার ওপর নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে বাস্তবায়ন করবে কি, করবে না। সেই জন্য গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি গুরুত্ব রাখি।

সংস্কার কমিশনগুলো মৌলিক কিছু বিষয় সামনে এনেছে উল্লেখ করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সেগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা, মতামত বিনিময়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যেটা বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের বিগত দিনে লক্ষ্য করিনি। সব রাজনৈতিক দলের মতামত জানার চেষ্টা ইতঃপূর্বে পরিলক্ষিত হয়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এটিই হলো অগ্রগতি।

মত, দ্বিমত, ভিন্নমত থাকাকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সেটাই গণতন্ত্রের নীতি। আবার মৌলিক কিছু বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য লাগবে। সেগুলো দেশ, জাতিকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে পুঁজিবাজার: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ

সালাম তালুকদারের রাজনীতি ছিল কেবলই মানুষের জন্য: স্মরণসভায় বক্তারা

ঢাকায় যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি

আরও বোয়িং কিনবে বাংলাদেশ, চুক্তিকে ‘অসাধারণ’ বললেন সার্জিও গোর

দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, ডলারের দাম ছাড়াল ২০ লাখ রিয়াল

কোনো দৃশ্য বাদ না দিয়েই সেন্সর ছাড়পত্র পেল বিতর্কিত ‘টক্সিক’

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান ইরানের প্রেসিডেন্টের

১১

হরমুজকে ফের ‘আমেরিকার ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের

১২

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

১৩

সফটওয়্যার আপডেটে আইফোন নাকি পিক্সেল—কোন স্মার্টফোন এগিয়ে?

১৪

হুথিদের লক্ষ্য করে ইয়েমেন সরকারের হামলা

১৫

বিরোধীদল হয়েই আ.লীগের সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে জামায়াত: রাশেদ

১৬

প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করতে বললেন ইসরাইলি মন্ত্রী

১৭

সিনেমায় ৫১ বছর পূর্ণ করলেন রজনীকান্ত

১৮

ডলার দুর্বল হওয়ার প্রভাব স্বর্ণের দামে

১৯

বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ, হাসিনার ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

২০