News Editor
১৮ জুন ২০২৫, ৪:২৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র— এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ও কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া

বুধবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এক সিনিয়র মার্কিন কূটনীতিক সম্প্রতি টিআরটি ওয়ার্ল্ডকে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি “বিবেচনায় রয়েছে”, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সিদ্ধান্তটা আমাদের নয়, হোয়াইট হাউস নেবে।”

এর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প একাধিক পোস্টে জানান, “আমরা এখন ইরানের আকাশে পুরো নিয়ন্ত্রণে আছি”। তিনি দাবি করেন, তারা জানেন ইরানের ‘সুপ্রিম লিডার’ কোথায় লুকিয়ে আছেন। এবং এক পোস্টে লেখেন, “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণ না করার কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

অন্যদিকে সাংবিধানিক ক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনে কংগ্রেসের ডজনখানেক রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট সদস্য প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধঘোষণার ক্ষমতা রুখতে নতুন একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ উত্থাপন করেছেন।

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না।”

এছাড়া এলিজাবেথ ওয়ারেন, ক্রিস মারফি, র‌্যান্ড পল প্রমুখ সিনেটররাও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

অবশ্য ট্রাম্পের নিজের ঘর অর্থাৎ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ঘরানার প্রভাবশালী নেতারাও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। টাকার কার্লসন, স্টিভ ব্যানন, চার্লি কির্ক, মার্জোরি টেইলর গ্রিন— তাদের মতে, “বিদেশি যুদ্ধে জড়ালে আমেরিকার ক্ষতি, নিরীহ মানুষের মৃত্যু, এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় আসবে।”

ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ চায়। বিপক্ষে রয়েছে ৬০ শতাংশ। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও শুধু ২৩ শতাংশ সমর্থন করে এই ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ। বরং ৫৬ শতাংশ আমেরিকান চায় ইরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আলোচনায় যাক যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, ট্রাম্প ইরানের ‘ফোরদো’ পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালাতে সামরিক সম্পদ ব্যবহারে আগ্রহী, যদিও তিনি এখনও ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ চান না।

এছাড়া এখনও পর্যন্ত ইরান সরাসরি কোনো মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালায়নি। তবে পেন্টাগন জানিয়েছে, “আমেরিকান সেনা নিহত হলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।”

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর বিশ্বনেতাদের প্রশংসায় ভাসছে পাকিস্তান

বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক, সে ম্যাচেই সুইডেনের নায়ক ইয়াসিন

দেশে স্বর্ণের দামে ফের বড় লাফ

৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই তিউনিসিয়ার জালে সুইডেনের ৫ গোল

কারিনা পাচ্ছেন বিশেষ সম্মাননা

দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা যেসব অঞ্চলে

ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলিতে পুলিশসহ আহত ৮

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি উদ্যোগে ইসরাইল থাকবে না, জানালেন নেতানিয়াহু

আজই চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা ট্রাম্পের, ভিন্ন সুর ইরানের

হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

১০

দোহারে আ.লীগের দুই নেতা গ্রেফতার

১১

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই: দিদিয়ের দেশম

১২

বিশ্বকাপের আগে মেসির রুম নিয়ে নতুন উন্মাদনা, নেপথ্যে যে কারণ

১৩

কেশম দ্বীপে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, পালটা জবাব দিল ইরান

১৪

খামেনির জানাজা ও দাফনের সময় জানাল ইরান

১৫

জাতিসংঘে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন খলিলুর রহমান

১৬

আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সব সুবিধা

১৭

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে চান ট্রাম্প

১৮

জামালপুর সমিতি ঢাকা’র রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

১৯

‘নেইমার আছেন’ শুনতেই আনন্দে ভাসল ব্রাজিল

২০