পাল্লেকেলেতে মুখোমুখি দুটি দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, তবে আড়ালে লড়ছিল নিউজিল্যান্ডও। সমীকরণ মেলাতে তাদের লড়াইটা ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সেই সমীকরণ মিলিয়ে কিউইরা সেমিফাইনালে উঠেছে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৫ রানে জিতেছে সালমান আগার দল, ব্যবধানটা ৬৫ রানের রাখতে পারলে তারাই বরং সেমিতে উঠত। ফলে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা উভয় দলই বিশ্বকাপ শেষ করল আক্ষেপ নিয়ে।
শাহিবজাদা ফারহানের রেকর্ডময় সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান ২১৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল। সেই রান তাড়ায় অধিনায়ক দাসুন শানাকার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কা রোমাঞ্চকর লড়াই উপহার দেয়, তবে তাদের ইনিংস থামে ২০৭ রানে। ম্যাচটিতে বেশকিছু নতুন রেকর্ড গড়েছেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি, ব্যক্তিগত ছক্কা ও রানের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে একগাদা কীর্তিতে নতুন নাম যুক্ত হয়েছে।
১০০
বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে শাহিবজাদা ফারহান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। ভিন্ন আসর হলেও মেগা টুর্নামেন্টটিতে দুটি সেঞ্চুরি আছে আর কেবল ক্রিস গেইলের। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরি আছে কেবল বাবর আজমের। ফারহান এই বিশ্বকাপেই করলেন দুটি শতক।
ফারহানের করা ১০০ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানি ব্যাটারের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ২০১৪ আসরে ১১১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন আহমেদ শেহজাদ।
১৮
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ১৮টি ছয় মারার রেকর্ড গড়লেন ফারহান। দু’দিন আগে ১৭টি ছয় নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিমরন হেটমায়ার। ২০২৪ আসরে সমান ১৭টি ছয় হাঁকান তারই স্বদেশি নিকোলাস পুরান।
৩৮৩
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ২০১৪ আসরে ৩১৯ রান করেছিলেন সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এতদিন পর্যন্ত এক আসরে এটাই ছিল সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ১২ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখলেন ফারহান। ৭৬.৬০ গড়ে তিনি ৩৮৩ রান করেছেন। গতকালই কোহলিকে ছাড়িয়ে যান ডানহাতি এই ব্যাটার। এ ছাড়া এতদিন পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৩০৩ রান ছিল বাবর আজমের।
৪
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ৪টি ফিফটি-প্লাস ইনিংস খেলার রেকর্ড ছিল চারটি। এই তালিকায় পঞ্চম নাম শাহিবজাদা ফারহান। চলমান আসরে তিনি দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি করেছেন। বিশ্বকাপের নির্দিষ্ট আসরে সমান ৪টি করে ফিফটি প্লাস ইনিংস খেলেছেন ম্যাথু হেইডেন (২০০৭), কোহলি (২০১৪), বাবর (২০২১) ও কোহলি (২০২২)।
১৭৬
গতকাল উদ্বোধনী জুটিতে ১৭৬ রান করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ফারহান ও ফখর জামান। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। চলতি আসরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের জুটি গড়েন নিউজিল্যান্ডের টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। এর আগে ২০২২ আসরে জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের করা ১৭০ রান ছিল এতদিন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ জুটি।
৭৬*
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ৭৬ রানের ইনিংস খেললেন দাসুন শানাকা। এর আগে ২০১০ আসরে ওই পজিশনে নেমে সর্বোচ্চ ৬০* রান করেছিলেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা মাইক হাসি।
২১
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ ২১টি ছয় হাঁকিয়েছেন শানাকা। এতদিন ১৯টি ছক্কা নিয়ে রেকর্ডটি দখলে ছিল ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মার। এ ছাড়া ক্রিস গেইল ও জস বাটলার সমান ১৭ এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি ১৬ ছক্কা মারেন।
১৪/৮
গতকাল টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ ১৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছে লঙ্কান ব্যাটাররা, এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে তারা একই কীর্তি গড়েছিল। শানাকা একাই মেরেছেন ৮টি ছয়, যা টি-টোয়েন্টির এক ইনিংসে কোনো লঙ্কার ব্যাটারের সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ ৭টি ছয় ছিল কুশল পেরেরার।
২১২
গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় রান (২১২) করেছে পাকিস্তান। এর আগে ২০১৬ আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের করা ২০১ রান ছিল সর্বোচ্চ। এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সবমিলিয়ে গতকাল পাকিস্তানের ইনিংসটি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের। ২০২১ সালে তারা এই সংস্করণে সর্বোচ্চ ২৩২ রান করেছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
৩৮
পাকিস্তানের হয়ে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম (৩৮ ম্যাচে) বোলার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের হাফসেঞ্চুরি করলেন আবরার আহমেদ। সমান ম্যাচে পেসার হাসান আলিও ৫০ উইকেট নিয়েছিলেন। সবচেয়ে দ্রুততম ৩৬ ম্যাচে উমর গুল এবং ৩৭ ম্যাচে উইকেটের ফিফটি করেন সাঈদ আজমর।
