১৯৯৬ সালে শুরু। পথ দেখান শেখ হাসিনা। অনুসরণ করেন খালেদা জিয়া, তারেক রহমান; এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসও। উপদেষ্টা নিয়োগ। শেখ হাসিনা একজন দিয়ে শুরু করে নিয়োগ করেছেন সর্বোচ্চ ১১ জন পর্যন্ত। এবার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান নিয়োগ করেছেন ১০ জন উপদেষ্টা। তবে নির্বাহী ক্ষমতাসহ উপদেষ্টা নিয়োগ শুরু হয় ২০০৩ সালে, খালেদা জিয়ার সময়।
সংবিধানে এই পদের উল্লেখ নেই। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার অনির্বাচিত এই উপদেষ্টাদের শপথও নিতে হয় না। কিন্তু তারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মন্ত্রিত্বের শপথের পাশাপাশি গোপনীয়তা রক্ষার শপথও নিতে হয়।
রুলস অব বিজনেসে প্রধানমন্ত্রীকে উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন বা নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান নেই।
শপথ না নেওয়া উপদেষ্টারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত থাকা এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা– এই সাংবিধানিক প্রশ্নে ২০০৬ সালে হাইকোর্ট রুল জারি করলেও তা নিষ্পত্তি হয়নি।
সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। মন্ত্রীর সংখ্যা হবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুযায়ী। মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি করবে।
৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ এক-দশমাংশ এমপি নন, এমন ব্যক্তির মধ্য থেকে নিয়োগ করা যাবে। তবে তারা সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন। সংসদে বিতর্কে এবং ভোটে অংশ নিতে পারলেও এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা নিজ মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে সংসদকে জানাবেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, সংবিধান অত্যন্ত পরিষ্কার। উপদেষ্টারা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন না। নির্বাহী ক্ষমতাও পেতে পারেন না। কারণ, উপদেষ্টাদের শপথ নেই। সংসদ, স্থায়ী কমিটিতে তাদের জবাবদিহি নেই। সুতরাং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন না। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা গোপনীয়তার শপথ নেন। উপদেষ্টারা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নিলে এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিলে, গোপনীয় বিষয়গুলো তাদের কাজের মধ্যে পড়বে। সংবিধান অনুযায়ী তা তারা করতে পারেন না।
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে উপদেষ্টা
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার মন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার পাঁচজন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রী মর্যাদায় মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। একই মর্যাদায় ড. হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, ড. মাহদী আমিনকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রেহান আসিফ আসাদকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমানকে কোনো মন্ত্রণালয় নয়, প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শরীফ ভূঁইয়া সমকালকে বলেন, প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের কথা যেহেতু উল্লেখ করা হয়েছে, এর মানে তারা নির্বাহী ক্ষমতাও পাচ্ছেন। তবে সংবিধানে এমন কোনো সুযোগ নেই। রুলস অব বিজনেসে উপদেষ্টাদের নির্বাহী ক্ষমতা নয়, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে। ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভার অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।
নিয়ম কী বলে
গোপনীয়তার শপথ না নিলেও গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টারা কখনও কখনও মন্ত্রিসভার বৈঠকে থাকতেন। যোগ দিতেন একনেক সভায়ও। এবার ১৮ ফেব্রুয়ারির তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার ‘বৈঠকে’ ছিলেন উপদেষ্টারা। যদিও পরে জানানো হয়, এটি মন্ত্রিসভার বৈঠক নয়, পরিচিতিমূলক সভা ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন না।
সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে সরকারি কার্যাবলি বণ্টন ও পরিচালনার জন্য বিধি প্রণয়নে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে; যা ‘রুলস অব বিজনেস-১৯৯৬’ নামে পরিচিত। এ বিধি ২০১৭ সালে সংশোধন করে শেখ হাসিনা সরকার। ৩(বি) ধারা যোগ করে প্রধানমন্ত্রীকে উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারী নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
বিধির ২ উপধারায় বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যে কোনো বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ এবং সহায়তার জন্য উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিতে পারবেন। একজন উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারী প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সময়ে সময়ে নির্ধারিত বিশেষ দায়িত্বও পালন করবেন।
রুল অব বিজনেসে মন্ত্রী, সচিবদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা, উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারীদের দেওয়ার বিধান এতে নেই।
ছিয়ানব্বই থেকে শুরু
১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা উপদেষ্টা নিয়োগ শুরু করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মন্ত্রী মর্যাদায় সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন না।
২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনের পর বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মন্ত্রী মর্যাদায় সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁরও মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
নির্বাহী ক্ষমতাসহ উপদেষ্টা নিয়োগ শুরু হয় ২০০৩ সালে। ওই সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। এতে টেকনোক্র্যাট কোটায় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন বরকত উল্লাহ বুলু। ২০০৩ সালে মন্ত্রিসভার আকার ছোট করায় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর কোটা কমে যায়। পদত্যাগ করতে হয় বরকত উল্লাহকে। তখন তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় বাণিজ্য উপদেষ্টা নিয়োগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেবারই প্রথম কোনো উপদেষ্টা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। মন্ত্রী খুরশিদ জাহান হকের মৃত্যুর পর ২০০৬ সালের জুনে তাঁকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০০৫ সালে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় মাহমুদুর রহমানকে জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী।
আদালতে তোলে আওয়ামী লীগ
উপদেষ্টাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় খালেদা জিয়ার শাসনামলে এর কড়া সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী হিসেবে এবং গোপনীয়তা রক্ষার শপথ না নেওয়া ব্যক্তিরা মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা– এই বিতর্ক আদালতে গড়ায়।
আওয়ামী লীগপন্থি তিন আইনজীবী রিটে ২০০৬ সালের ১৯ জুন দুই উপদেষ্টা নিয়োগ কেন অবৈধ নয়– এ বিষয়ে রুল জারি করেন। তবে এই রুল এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। রিটকারী আইনজীবীর একজন রুহুল কুদ্দুস বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারক।
রিটে বলা হয়েছিল, সংবিধানে উপদেষ্টা নিয়োগের বিধান নেই। উপদেষ্টাদের শপথও গ্রহণ করা হয় না। সংবিধানের ৫৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করা উপদেষ্টারা সংসদের দায়বদ্ধ নন। ফলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে উপদেষ্টা নিয়োগকে অসাংবিধানিক আখ্যা দেওয়া হয় রিট আবেদনে।
ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারে বিশেষ সহকারী
সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের সরকারেও শপথ গ্রহণ না করা ব্যক্তিদের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সংখ্যা সংবিধানে ১০ জন নির্দিষ্ট করে দেওয়া ছিল।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় এক বছর পর, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় মাহবুব জামিল, রাজা দেবাশীষ রায়, এম এ মালেক, ম তামিম এবং মানিক লাল সমাদ্দারকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা। তারা শপথ না নিলেও ১০টি মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করেন।
উপদেষ্টার ছড়াছড়ি শেখ হাসিনার আমলে
বিএনপি আমলে উপদেষ্টা নিয়োগের সমালোচনা করলেও শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যক, ছয়জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন, যা একসময় ১১ জনে দাঁড়ায়।
মন্ত্রী মর্যাদায় প্রথমে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক এবং পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন এইচ টি ইমাম, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন তারেক সিদ্দিক, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ডা. মোদাচ্ছের আলী, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন গওহর রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ড. আলাউদ্দিন আহমেদ এবং অথর্নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন ড. মসিউর রহমান।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, উপদেষ্টার তালিকায় মোদাচ্ছের আলীর নাম রয়েছে। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে বাকি উপদেষ্টার নাম মন্ত্রণালয়ের তালিকায় নেই।
শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দিকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে। বাবলু ছিলেন শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা। এতে শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সংখ্যা বেড়ে হয় ১১ জন। শফিক আহমেদ ও দিলীপ বড়ুয়া মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করেন।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনা মন্ত্রী মর্যাদায় ছয়জন উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। আগের সাত উপদেষ্টার মধ্যে বাদ পড়েন মোদাচ্ছের আলী ও আলাউদ্দিন আহমেদ। তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা চতুর্থ মেয়াদে সাতজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন মন্ত্রী মর্যাদায়। ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাদ পড়েন। যুক্ত হন সজীব ওয়াজেদ জয় ও সালমান এফ রহমান। ২০২১ সালে মারা যান এইচ টি ইমাম।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা পঞ্চম মেয়াদে আবার সাতজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। পুরোনো ছয়জনের সঙ্গে যুক্ত হন কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। তাঁকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে অফিসও করতেন। নথিতে সই করতেন। তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ফাইলে সই করতেন। এইচ টি ইমামও নথিতে সই করতেন।
ইউনূস আমলেও শপথ না নেওয়া নির্বাহী
ড. ইউনূস প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় ছয়জন বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। তারা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করলেও শপথ বা গোপনীয়তার শপথ নেননি। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
খোদা বকস চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্র, সায়েদুর রহমানকে স্বাস্থ্য, শেখ মইন উদ্দিনকে সড়ক পরিবহন ও রেল, ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবকে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি, আনিসুজ্জামানকে অর্থ, মোহাম্মদ সুফিউর রহমানকে পররাষ্ট্রে বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা শপথ না নিলেও উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে থাকতেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমানও বৈঠকে অংশ নিতেন; কিন্তু শপথ নেননি।
