আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কোড সক্রিয় করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, যে কারণে পিছু হাঁটেন

News Editor
এপ্রিল ২২, ২০২৬ ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কোড ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন এবং তাকে থামিয়ে দেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন—এমন দাবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসন সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসের এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প পারমাণবিক কোড ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, কিন্তু জেনারেল কেইন তাকে বাধা দেন। জনসন ঘটনাটিকে ‘বড় ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অ্যান্ড্রু ন্যাপোলিটানো পরিচালিত ‘জাজিং ফ্রিডম’ পডকাস্টে জনসন বলেন, বৈঠকটি এক পর্যায়ে তর্কে রূপ নেয়, যখন ট্রাম্প পারমাণবিক কোড সক্রিয় করতে চান। তখন জেনারেল কেইন দাঁড়িয়ে সরাসরি ‘না’ বলেন এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তবে এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড চেইনের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের নির্দেশকে সরাসরি কেউ অগ্রাহ্য করতে পারেন না, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো সিদ্ধান্তে।

এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ১৮ এপ্রিল শনিবার জেনারেল কেইন, পিট হেগসেথসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসে উপস্থিত হন। পডকাস্টে দেখানো ফুটেজে কেইনকে ভবন থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প ও জেনারেল কেইনের মধ্যে ইরান নিয়ে মতবিরোধ ছিল। যদিও ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে কেইন মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘সহজেই জেতা সম্ভব’, প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তবে কেইনের পরামর্শ ছিল ভিন্ন।

আরও একটি প্রতিবেদনে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানসেনাদের উদ্ধারের সাম্প্রতিক অভিযানের সময় ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। সূত্রের বরাতে বলা হয়, সে সময় তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা সহকারীদের ওপর চিৎকার করছিলেন। সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, তার অধৈর্য আচরণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

যদিও ট্রাম্পের পারমাণবিক হামলার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তার সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী বক্তব্য এবং সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য এই ভাইরাল দাবিকে আরও উসকে দিয়েছে।

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।